০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এমপি হয়েও সিলেটের মুফতি আবুল হাসান রাত কাটাচ্ছেন মসজিদের বারান্দায়

  • Update Time : ০৪:২৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

ডেস্ক রিপোর্ট :: আধুনিক রাজনীতির চাকচিক্য আর ক্ষমতার দাপটের মাঝেও এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শায়খুল হাদিস আল্লামা হাফিজ মাওলানা মুফতি আবুল হাসান। সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসন থেকে নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধি এমপি হওয়ার পরও নিজের জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন আনেননি। এখনও তিনি রাত কাটাচ্ছেন মসজিদের বারান্দায়, সামান্য কাপড়ের ছাউনির নিচে—যা দেখে অনেকেই ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলের সেই সরলতার কথা স্মরণ করছেন। জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন হাফিজ মাওলানা মুফতি আবুল হাসান। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ‘দেওয়াল ঘড়ি’ প্রতীক নিয়ে তিনি বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। সাধারণত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকের জীবনমানে আমূল পরিবর্তন আসে, কিন্তু মুফতি আবুল হাসান তার ব্যতিক্রম। নির্বাচনের আগে তিনি যেভাবে মসজিদের বারান্দায় রাত কাটাতেন এবং সাধারণ মুসল্লিদের সাথে মতবিনিময় করতেন, নির্বাচনের পরেও সেই একই চিত্র বজায় রেখেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ বা আলিশান বাড়ি নয়, বরং মসজিদের এক কোণে পর্দার মতো কাপড় টাঙিয়ে তৈরি করা অস্থায়ী কক্ষেই তিনি থাকছেন।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই সাদাসিধে থাকার ছবি ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অনেক মুসল্লি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন,
​”আমরা ভেবেছিলাম এমপি হওয়ার পর হয়তো তাকে আর সহজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু তিনি আমাদের ভুল প্রমাণ করেছেন। তার এই জীবনযাপন আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই সোনালী যুগের কথা, যখন শাসকরা সাধারণ মানুষের পাশে মাটিতে শুয়ে রাত কাটাতেন।” হাফিজ মাওলানা ​মুফতি আবুল হাসানের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, তিনি মনে করেন পদ-পদবি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত। বিলাসিতার পেছনে সময় ও অর্থ ব্যয় না করে তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের সাথী হতে চান। দিনের বেলা নির্বাচনী এলাকার মানুষের সমস্যা শুনছেন এবং রাতে আল্লাহর ঘরেই আশ্রয় নিচ্ছেন। একজন আলেম থেকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার এই যাত্রায় তিনি যে ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, তা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বিরল ঘটনা হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। জেড টিভি নিউজ

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

এমপি হয়েও সিলেটের মুফতি আবুল হাসান রাত কাটাচ্ছেন মসজিদের বারান্দায়

Update Time : ০৪:২৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :: আধুনিক রাজনীতির চাকচিক্য আর ক্ষমতার দাপটের মাঝেও এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শায়খুল হাদিস আল্লামা হাফিজ মাওলানা মুফতি আবুল হাসান। সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসন থেকে নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধি এমপি হওয়ার পরও নিজের জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন আনেননি। এখনও তিনি রাত কাটাচ্ছেন মসজিদের বারান্দায়, সামান্য কাপড়ের ছাউনির নিচে—যা দেখে অনেকেই ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলের সেই সরলতার কথা স্মরণ করছেন। জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন হাফিজ মাওলানা মুফতি আবুল হাসান। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ‘দেওয়াল ঘড়ি’ প্রতীক নিয়ে তিনি বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। সাধারণত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকের জীবনমানে আমূল পরিবর্তন আসে, কিন্তু মুফতি আবুল হাসান তার ব্যতিক্রম। নির্বাচনের আগে তিনি যেভাবে মসজিদের বারান্দায় রাত কাটাতেন এবং সাধারণ মুসল্লিদের সাথে মতবিনিময় করতেন, নির্বাচনের পরেও সেই একই চিত্র বজায় রেখেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ বা আলিশান বাড়ি নয়, বরং মসজিদের এক কোণে পর্দার মতো কাপড় টাঙিয়ে তৈরি করা অস্থায়ী কক্ষেই তিনি থাকছেন।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই সাদাসিধে থাকার ছবি ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অনেক মুসল্লি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন,
​”আমরা ভেবেছিলাম এমপি হওয়ার পর হয়তো তাকে আর সহজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু তিনি আমাদের ভুল প্রমাণ করেছেন। তার এই জীবনযাপন আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই সোনালী যুগের কথা, যখন শাসকরা সাধারণ মানুষের পাশে মাটিতে শুয়ে রাত কাটাতেন।” হাফিজ মাওলানা ​মুফতি আবুল হাসানের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, তিনি মনে করেন পদ-পদবি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত। বিলাসিতার পেছনে সময় ও অর্থ ব্যয় না করে তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের সাথী হতে চান। দিনের বেলা নির্বাচনী এলাকার মানুষের সমস্যা শুনছেন এবং রাতে আল্লাহর ঘরেই আশ্রয় নিচ্ছেন। একজন আলেম থেকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার এই যাত্রায় তিনি যে ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, তা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বিরল ঘটনা হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। জেড টিভি নিউজ

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ