ঈদুল আযহাকে “বক্বরা ঈদ” বলার কারণ : শাহ মমশাদ আহমদ
- Update Time : ১০:০৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
নামাজের বিভিন্ন মাসআলায় বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা অব্যাহত রাখার সাথে সাথে কুরবানীর বিষয়ে ও চিহ্নিত কথিত সাহীহ হাদীস অনুসারী ভাইয়েরা ফিতনা সৃষ্টি করে চলেছেন। একজন বাজারী বক্তা ছাগল দিয়ে কুরবানী করা উত্তম প্রমানে আজগুবি এক দালীল পেশ করেছেন। পূর্বকালে এদেশের মানুষ সঠিক কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণ করত, এক গরু সাত অংশ না করে ছাগল দিয়ে কুরবানী আদায় করতেন, এজন্যই নাকি বকরি ঈদ বলা হয়।
মুলত পাকিস্তান ও ভারতের কিছু অঞ্চলে পরিবেশের কারণে গরু প্রতিপালক দুস্কর, এ সব অঞ্চলে বাধ্য হয়েই ছাগল-ভেড়া দিয়ে কুরবানী করা হয়ে থাকে, এজন্য তারা কুরবানির ঈদকে বকরি ঈদ বলে থাকেন। তবে আমাদের দেশে ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদকে যে “বকরা ঈদ” বলা হয়ে, তার মুল উর্দু বকরি (ছাগল) নয়, মুল হচ্ছে আরবি শব্দ বাক্বার (গরু)।
আমাদের অঞ্চল হিন্দু শাসকদের অধীনে থাকায় এক সময় গরু জবাই নিষিদ্ধ ছিল, মুসলমানগণ জীবনের ঝুকি নিয়ে তিনটি কারণে গরু কুরবানী করতেন।
১. গরু যে এক সাধারণ জন্তু তা প্রমাণ করার জন্য, যদি গরু হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী গো দেবতা হত, তা হলে তো নিজেকে রক্ষার সামর্থ রাখত, গরু জবাই করে গরু পুজারীদের বিশ্বাসের আসারতা প্রমাণ করা হত।
২. হিন্দু বিশ্বাসের প্রভাবে অনেক মুসলমান ও গরুকে সম্মান করত, এ বিশ্বাস অপনোদনের জন্য।
৩. গরু কুরবানী ছাগলের চেয়ে সাশ্রয়ী ছিল, এক গরু সাত অংশ করে কুরবানী দেয়া হত।
ঈদুল আযহার বিশেষ আমল কুরবানী যেহেতু এতদঞ্চলে অধিকাংশ গরু তথা বাক্বার দিয়ে দেয়া হত, এজন্য বাক্বারা ঈদ নামে প্রসিদ্ধ লাভ করেছে।
আমার ধারণা, সিলেট অঞ্চলের মুসলমানগণ এ নামকরনে অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছেন, হযরত গাজী বুরহাহ উদ্দিন রহ এর ছেলের আকীকায় গরু জবাই কেন্দ্র করেই সিলেটে ইসলাম এসেছে। তাই গরু দিয়ে কুরবানী সম্পাদনে সিলেটের মুসলমানদের আগ্রহ বেশি ছিল, এজন্য কুরবানীর ঈদকে তারা বাক্বারা ঈদ বলতেন।
দ্বিতীয়ত আমাদের দেশে এক সময় সাদা গাভী দিয়ে কুরবানী করাকে অভিজাত্যের প্রতিক ভাবা হত, ঢাকায়
কিছু অঞ্চলে এখন ও সে ঐতিহ্য বিদ্যমান আছে।
আরবি ভাষায় গাভীকে বাক্বারাহ বলা হয়, তা থেকে বাকারা ঈদ বলা হতে পারে। হে আল্লাহ! তোমার জন্য আমাদের কুরবানী কবুল কর। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।



















