ইসলামী রাষ্ট্র ছাড়া ব্যক্তি জীবনে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম মানা সম্ভব নয়- ড. আহমদ আবদুল কাদের
- Update Time : ০৫:০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে যদি ইসলাম কায়েম না থাকে তাহলে একজন ব্যক্তির পক্ষে সমাজে বাস করে ও সমাজের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যক্তি জীবনেও ইসলাম মানা সম্ভব নয়। আমরা সবাই জানি ব্যক্তিগতভাবে হালাল রুজী অনুসন্ধান করা ফরজ। অথচ আজকের সমাজে হালাল রুজী সংগ্রহ করা কত যে কঠিন তাতো সবাই জানেন। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরী-বাকরী, অফিস-আদালত কোথাও কি শরিয়ত পুরো মানা হচ্ছে?
সবদিকে বাদ দিয়ে শুধু সুদের ব্যাপারটাই বিবেচনা করুন। চাকুরী ও ব্যবসার সাথে ব্যাংকের সম্পর্ক সরাসরি। ব্যাংক কি সুদ ভিত্তিক পরিচালিত নয়? আমরা কি প্রত্যক্ষ্য-পরোক্ষভাবে সুদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছি না? অথচ সুদ গ্রহিতা, দাতা, সাক্ষী, দলীল লেখক সবাইকে হাদীসে লানত দেয়া হয়েছে। আজকের গোটা অর্থনীতিই সুদনির্ভর। জাতীয়ভাবে আমরা সুদের সঙ্গে জড়িয়ে আছি।
অফিস-আদালতে কি ঘুষ ছাড়া আজকে সহজে কোন হক আদায় করা যায়? অথচ ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়কেই মহাপাপী বলা হয়েছে। বিচার ফয়সালার জন্য কি আমাদের মানবীয় আইনের দ্বারা পরিচালিত কোর্ট আদালতে যেতে হয় না ? ফাসেক-ফাজের ও নাফরমান ব্যক্তিদের নিকট বিচার চাইতে হয় না; অথচ আল্লাহ বলেছেন, “তুমি কি সে সব লোককে দেখনি, যারা দাবী করে যে, তোমার প্রতি ও তোমার পূর্ববর্তী প্রতি নাযিল করা কিতাবের প্রতি তারা ঈমান এনেছে – অতঃপর বিচার – ফায়সালার জন্য তাগুতের (খোদাদ্রোহী শক্তি) নিকট নিয়ে যেতে চায় অথচ তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাকে অস্বীকার করার? শয়তান তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে দূরে নিয়ে যেতে চায়।” (সূরা নিসা:৬০)
হয়তো বলা হবে যে, শরীয়ত ভিত্তিক কোর্ট নাই বলেই তো বাধ্য হয়ে এসব আদালতে যেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় কি শরীয়ত ভিত্তিক কোর্ট প্রতিষ্ঠার আন্দোলন জরুরী হয়ে পড়ে না? না-কি মানবীয় আইনে পরিচালিত আদালত স্থায়ীভাবে মেনে নেয়া জায়েয হবে? এসব পরিবর্তনের চেষ্টা করা কি জরুরী নয়?
যারা চাকুরী করেন তাদেরকে এমন অনেক কিছুই চাকুরীর খাতিরে অনেক সময় করতে হয় যা শরীয়ত অনুমোদন নয়। দেশে যেসব জুলুমমূলক আইন ও নীতি চালু আছে, তা কি সরকারী কর্মচারীদের বাস্তবায়ন করতে হয় না? আমাদের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় দ্বীন বিরোধী এমন অনেক কিছুই কি নেই? তা কি আমাদের অধ্যয়ন ও এর পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করে ডিগ্রী অর্জন করতে হয় না ?
রাস্তাঘাটে, বাজার-হাটে কি আমাদের অনেক উলঙ্গতা, অশ্লীলতা, বেপর্দা প্রত্যক্ষ করতে হয় না? চাকুরী ও ব্যবসার কারণে অনেক সময় কি আমাদেরকে ইসলামের হিজাব, দৃষ্টির সতর্কতা ইত্যাদী লংঘন করতে হয় না?
মোটকথা উকিল, মুক্তার, বিচারক, সরকারী আমলা, পুলিশ বাহিনী, আইন প্রনয়নকারী সংস্থা, সেনাবাহিনী, ব্যাংক-বীমা ও ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভেবে দেখুন কতটুকু শরীয়ত মানা সম্ভব হচ্ছে?
আপনার আমার মেধা ও শক্তি কি জুলুমমূলক শাসনের স্থায়ীত্বের জন্য ব্যয় হচ্ছে না? হয়তো বলা হবে উপায় নেই।
ব্যক্তি জীবনে নামায, রোজা, অজু, গোসল ইত্যাদি কয়েকটি সীমিত ক্ষেত্রের বাইরে আমাদের পক্ষে ব্যক্তিগত ভাবেইবা কতটুকু ইসলাম অনুশীলন করা সম্ভব হচ্ছে? এ অবস্থায় দ্বীনদার লোকদের কি নিশ্চেষ্ট হয়ে বসে থাকার সুযোগ আছে ?
যারা ব্যক্তিগত জীবনে ইসলাম মেনে চলার চেষ্টা করেন না, তাদের কথা না হয় বাদই দিলাম; কিন্তু আমরা যারা মানতে চাই তাদের কি চিন্তা করে দেখা উচিত নয়? অপারগতার দোহাই দিয়ে কি আমরা বাঁচতে পারব?
যেখানে চেষ্টা করলে, জোরদার আন্দোলন গড়ে তুললে অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব সেখানে উপায়হীনতা ও অপারগতার ওজর-আপত্তি কতটুকু গ্রহনযোগ্য?
তাই ব্যক্তি জীবনে শরীয়তের যথাযত অনুসারী হতে হলে, ব্যক্তি হিসেবেও সমস্ত কাজ-কর্ম ইসলামের সীমার ভিতর থেকে সম্পাদন করতে হলে শরীয়ত ভিত্তিক রাষ্ট্র তথা ইসলামী রাষ্ট্র অপরিহার্য। এবং ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের জন্য চেষ্টা করা অপরিহার্য ও অতি জরুরী ।
লেখক: ড. আহমদ আবদুল কাদের



















