ইন্না-লিল্লাহ কেন পড়ি? মর্ম কি? : শাহ মমশাদ আহমদ
- Update Time : ০১:৫৬:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ আগস্ট ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
কারো মৃত্যু সংবাদ জানার সাথে সাথেই আমরা ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন পড়ি, ইদানিং করোনা প্রাদুর্ভাবকালীন আমরা অধিকহারে তা পড়ছি কিন্তু এটা কেন পড়ি? এ কথাটির মানে কি? এটা কি মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া? বিষয়টি কী কখনো কখনো ভেবেছি?
না ভাই, এটা মৃত ব্যক্তির জন্য কোন দোয়া নয়, এর সাথে মৃত ব্যক্তির কোন সম্পর্ক নেই, এটা নিজের জন্যই পড়তে হয়, শুধু মৃত্যু সংবাদে নয় যে কোন দুর্যোগ, সমস্যায় এ বাক্য বলা আল্লাহর নির্দেশ।
আল্লাহ ধৈর্যশীল মুমিনদের গুন বর্ননা করে বলেন, তারা কোন মুসিবতে আক্রান্ত হলেই ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন বলে। (সুরা বাকারা ১৫৬) এআয়াত থেকে বুঝা যায়,একজন মুমিন যে কোন মুসিবত এলেই ইন্না-লিল্লাহ বলবে, এবং আল্লাহর ফয়সালা সর্মপিত চিত্তে মেনে নিবে।
কথাটিতে দুটি বাক্য রয়েছে, প্রথমটি ইন্না লিল্লাহ, অর্থ নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য। অর্থাৎ আমরা আল্লাহর সৃষ্টি, মাখলুক এবং দাস, এপৃথিবীতে বাহ্যিকভাবে যদিও আমরা অনেক সম্পদের মালিক দাবী করি, মূলত এসব সম্পদ এমনকি নিজের স্বত্বার ও মালিক আমি নই, মূল মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। ইন্না-লিল্লাহ বলে আমরা একথার স্বীকৃতি ও সাক্ষ্য দেই। নিজের মনকে প্রবোধ দেই।
কারো মৃত্যুর পর আমরা ইন্না-লিল্লাহ পড়ে এ ঘোষনা দেই, আল্লাহ নিজ বান্দাহকে যত দিন ইচ্ছা পৃথিবীতে রেখেছেন, আবার তার ইচ্ছায় উঠিয়ে নিয়েছেন, যে কোন মুহুর্তে আমাকে উঠিয়ে নিতে পারেন, আমি তো তার দাস, আমার নামাজ, আমার এবাদাত, আমার জীবন, আমার মরন সবই তো আল্লাহর জন্য,আমি কেন অধৈর্য্য হবো?আল্লাহর ফয়সালাতেই আমি সন্তুষ্ট। কোন সম্পদহানী বা হারিয়ে গেলেও আমরা ইন্না-লিল্লাহ পড়ে একথার স্বীকৃতি দেই, যে এসম্পদের মূল মালিক তো আল্লাহ, তিনি তার ইচ্ছানুযায়ী আমাকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, আমার কল্যানের জন্যই সু্যোগহারা করেছেন, আল্লাহর ফয়সালায় আমি সন্তুষ্ট। আমরা ইন্না-লিল্লাহ বলে আল্লাহর সকল বিধান শিরোধার্য করি, তার ফয়সালায় সন্তষ্টির প্রকাশ করি।
কথাটির দ্বিতীয় বাক্য ওয়া ইলাইহি রাজিউন, এর অর্থ আর নিশ্চয়ই আমরা তার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। এবাক্যটিতে আছে আখেরাতের প্রতি ঈমানের ঘোষণা, পৃথিবীর নানা অবস্থা আমাদের জানিয়ে দেয় এদুনিয়া ক্ষনিকের, বিপদে পতিত হলে, স্বজনের মৃত্যুতে একথা আমাদের মনে আরো বেশী অনুভুত হয়,তাই আমরা বলি, আমাদের সকলেই তার দিকে ফিরে যেতে হবে, কেউ আগে যাবে, কেউ একটু পরে। আমি হতাশ হবোনা, আল্লাহর কাছে ফিরে যাবার প্রস্তুতি গ্রহণ করবো, ওয়া ইলাইহি রাজিউন বলে আমরা এ প্রতিশ্রুতিই ব্যক্ত করি।
একথাটির আরেকটি ব্যাখ্যা হতে পারে, কেউ কোন মুসিবতে পড়লে প্রিয় জনের কাছে শান্তনার খুজে যেতে চায়, একজন মুমিনের প্রকৃত প্রিয়স্বত্বা আল্লাহ, ওয়া ইলাইহি রাজিউন বলে নিজের প্রিয়ের কাছে ফিরিয়ে যাবার অবধারিত নীতি স্মরণ করে, হতাশা ঝেড়ে ফেলে। এবার আমরা দেখবো এ বাক্যটি পড়লে আমরা কি পুরস্কার পাবো?
প্রিয় নবী সঃ বলেন, কোন মুমিনের উপর যখন বিপদ আসে, অতঃপর সে আল্লাহ নির্দেশিত ইন্না-লিল্লাহ পড়ে, এবং বলে
اللهم اجرنى فى مصيبتى واخلف لى خيرا منها
“হে আল্লাহ, আমার বিপদে আমাকে প্রতিদান দিন এবং হারানো বস্তুর চেয়ে উত্তম বস্তু দান করুন” আল্লাহ তাকে হারানো বস্তুর চেয়ে উত্তম বস্তু দান করেন। (সাহীহ মুসলিম) আল্লাহ আমাদের উত্তম বিনিময় দান করুন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।



















