০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আশুরার রোজা কয়টি? : শাহ মমশাদ আহমদ

  • Update Time : ০২:০০:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট ২০২১
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমযান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোযা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’-সহীহ বুখারী

 

হযরত আলী রা.কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল, রমযানের পর আর কোন মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোযা রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জনৈক সাহাবী করেছিলেন, তখন আমি তাঁর খেদমতে উপসি’ত ছিলাম। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘রমযানের পর যদি তুমি রোযা রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।’-জামে তিরমিযী

 

অন্য হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোযার কারণে আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’ -সহীহ মুসলিম,  জামে তিরমিযী

 

আশুরার রোযা সম্পর্কে এক হাদীসে আছে যে, ‘তোমরা আশুরার রোযা রাখ এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে; আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখ।
-মুসনাদে আহমদ

 

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে ৯ তারিখেও অবশ্যই রোযা রাখব।’-সহীহ মুসলিম।

উপরুক্ত হাদীসগুলোর আলোকে দুটি বিষয় প্রমাণিত হয়।
১- আশুরার দিনে রোজা রাখা ফজিলতপুর্ন ও সুন্নাহ।
২- আশুরার রোজার পুর্বে অথবা পরে একটি রোজা রাখাও সুন্নাহ।

সে হিসেবে এবছর আশুরার রোজা আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অথবা শুক্র ও শনিবার রাখা যেতে পারে,তবে ৯ ও১০ মুহাররাম বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাখা উত্তম হবে,কেননা প্রিয় নবী সঃ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন আমি যদি বেচে থাকি অবশ্যই ৯ মুহাররাম রোজা রাখবো,নবীর (সঃ) প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করাও সুন্নাহ।

 

আশুরার রোজার বিষয়ে উলামায়ে কেরামের আরেকটি মত হচ্ছে তিনটি রোজা রাখা মুস্তাহাব। যেহেতু সাহীহ ইবনে খুযায়মা ও তিরমিজি শরীফে হযরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্নিত রেওয়াতে পাওয়া যায়,তোমরা ইয়াহুদীদের বিপরীত আশুরার দিনে এবং আগে ও পরে একদিন রোজা রাখ।
এব্যাপারে প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা আনোয়ার
শাহ কাশ্মীরী রহঃ বলেন,,আশুরার রোজা তিন পর্যায়ের।

১- আশুরার দিন,পুর্বে ও পরে একটি, মোট তিনটি রোজা রাখা,এটি সর্বোত্তম।

২- আশুরার দিনের সাথে পুর্বে অথবা পরে একটা মোট দুটি রোজা রাখা,এটা উত্তম।

৩- শুধু আশুরা দিবসে রোজা রাখা,এটিও জায়েয।
(দেখুন,আল্লামা কাশ্মীরী লিখিত শরহে তিরমিজি)
কিছু ফতওয়ার কিতাবে একটি রোজা রাখাকে
মাকরুহ তানযিহী বলা হয়েছে,তবে ইহুদী অধ্যুষিত
অঞ্চলে বসবাস করলে দুটি রাখা জরুরী। আল্লাহ আমাদের সুন্নাহ মুতাবেক আমল করার তাওফিক দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

আশুরার রোজা কয়টি? : শাহ মমশাদ আহমদ

Update Time : ০২:০০:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট ২০২১

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমযান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোযা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’-সহীহ বুখারী

 

হযরত আলী রা.কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল, রমযানের পর আর কোন মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোযা রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জনৈক সাহাবী করেছিলেন, তখন আমি তাঁর খেদমতে উপসি’ত ছিলাম। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘রমযানের পর যদি তুমি রোযা রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।’-জামে তিরমিযী

 

অন্য হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোযার কারণে আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’ -সহীহ মুসলিম,  জামে তিরমিযী

 

আশুরার রোযা সম্পর্কে এক হাদীসে আছে যে, ‘তোমরা আশুরার রোযা রাখ এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে; আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখ।
-মুসনাদে আহমদ

 

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে ৯ তারিখেও অবশ্যই রোযা রাখব।’-সহীহ মুসলিম।

উপরুক্ত হাদীসগুলোর আলোকে দুটি বিষয় প্রমাণিত হয়।
১- আশুরার দিনে রোজা রাখা ফজিলতপুর্ন ও সুন্নাহ।
২- আশুরার রোজার পুর্বে অথবা পরে একটি রোজা রাখাও সুন্নাহ।

সে হিসেবে এবছর আশুরার রোজা আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অথবা শুক্র ও শনিবার রাখা যেতে পারে,তবে ৯ ও১০ মুহাররাম বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাখা উত্তম হবে,কেননা প্রিয় নবী সঃ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন আমি যদি বেচে থাকি অবশ্যই ৯ মুহাররাম রোজা রাখবো,নবীর (সঃ) প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করাও সুন্নাহ।

 

আশুরার রোজার বিষয়ে উলামায়ে কেরামের আরেকটি মত হচ্ছে তিনটি রোজা রাখা মুস্তাহাব। যেহেতু সাহীহ ইবনে খুযায়মা ও তিরমিজি শরীফে হযরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্নিত রেওয়াতে পাওয়া যায়,তোমরা ইয়াহুদীদের বিপরীত আশুরার দিনে এবং আগে ও পরে একদিন রোজা রাখ।
এব্যাপারে প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা আনোয়ার
শাহ কাশ্মীরী রহঃ বলেন,,আশুরার রোজা তিন পর্যায়ের।

১- আশুরার দিন,পুর্বে ও পরে একটি, মোট তিনটি রোজা রাখা,এটি সর্বোত্তম।

২- আশুরার দিনের সাথে পুর্বে অথবা পরে একটা মোট দুটি রোজা রাখা,এটা উত্তম।

৩- শুধু আশুরা দিবসে রোজা রাখা,এটিও জায়েয।
(দেখুন,আল্লামা কাশ্মীরী লিখিত শরহে তিরমিজি)
কিছু ফতওয়ার কিতাবে একটি রোজা রাখাকে
মাকরুহ তানযিহী বলা হয়েছে,তবে ইহুদী অধ্যুষিত
অঞ্চলে বসবাস করলে দুটি রাখা জরুরী। আল্লাহ আমাদের সুন্নাহ মুতাবেক আমল করার তাওফিক দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ