১২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আল্লাহর ভয়ে কান্না, কত প্রকার? যে কারণে কাঁদা উচিত : শাহ মমশাদ আহমদ

  • Update Time : ০২:১০:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুন ২০২১
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আল্লাহ তাআলার জন্য কান্নাকাটি করা ব্যক্তির মর্যাদা অনেক উঁচু মানের। যে ব্যক্তি তাওহীদের স্বাদ অনুভব করেন তিনিই কাঁদতে পারেন।

 

*হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা সেদিন তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন; যেদিন তার ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। তন্মধ্যে ওই ব্যক্তি একজন, যে নিরবে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে; আর তার চোখ থেকে পানি ঝরে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

 

*হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি; তিনি বলেছেন, ‘দুটি চোখকে দোজখের আগুন স্পর্শ করবে না; প্রথম হলো সেই চোখ যা আল্লাহর ভয়ে কাঁদে। আর দ্বিতীয় হলো সেই চোখ; যা আল্লাহর পথে (জিহাদে) পাহারায় রাতযাপন করে। (তিরমিজি)
আল্লাহর জন্য কান্না তিন প্রকারের

১- চোখের কান্না (بكاء العينين)

২- মনের কান্নাبكاء القلب

৩- আত্মার কান্না بكاء الروح চোখ দিয়ে পানি ঝরার মাধ্যমেই উন্নত দুটি স্থর অর্জিত হয়।

 

ছয়টি কারণে কাদা উচিত।

১- গুনাহের কথা স্মরণ করে কাঁদা।بكاء الخطيه

২- ভয়ে কাঁদা। بكاء الخوف (কবর, নাশর, পুলসিরাত জাহান্নামের ভয়)

৩- নিয়ামত হারিয়ে যাওয়ার শোকে কাঁদা। بكاء الفقد
(যেমন তেলাওত, এবাদতে পুর্বে মন লাগত এখন, এরুপ তৃপ্তি না লাগার জন্য কাদা)

৪- লজ্জায় কাদা।بكاء الحياء
(আল্লাহর মেহেরবানীর তুলনায় সামান্যতম
অনুগত্য না করার লজ্জা)

৫- আল্লাহর মর্যাদার স্মরণে কাঁদা।بكاء الهيبه

৬- মাওলার সান্নিধ্য লাভের প্রত্যাশা ও ভালোবাসায় কাঁদা।بكاءللقاء والمحبه

 

মানুষের চোখের পানির মর্যাদা আল্লাহ তাআলার নিকট অনেক বেশি। তাই মানুষের উচিত তাঁর ভয়ে বেশি বেশি কান্নাকাটি করা। আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে মানুষকে তাঁর সব বিধিবিধান মেনে চলার পাশাপাশি তাঁর ভয়ে বেশি বেশি কান্নাকাটির করার তাওফিক দান করুন। মানুষের মনে তাঁর ভয় ও মহব্বত সৃষ্টি করে দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

আল্লাহর ভয়ে কান্না, কত প্রকার? যে কারণে কাঁদা উচিত : শাহ মমশাদ আহমদ

Update Time : ০২:১০:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুন ২০২১

আল্লাহ তাআলার জন্য কান্নাকাটি করা ব্যক্তির মর্যাদা অনেক উঁচু মানের। যে ব্যক্তি তাওহীদের স্বাদ অনুভব করেন তিনিই কাঁদতে পারেন।

 

*হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা সেদিন তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন; যেদিন তার ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। তন্মধ্যে ওই ব্যক্তি একজন, যে নিরবে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে; আর তার চোখ থেকে পানি ঝরে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

 

*হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি; তিনি বলেছেন, ‘দুটি চোখকে দোজখের আগুন স্পর্শ করবে না; প্রথম হলো সেই চোখ যা আল্লাহর ভয়ে কাঁদে। আর দ্বিতীয় হলো সেই চোখ; যা আল্লাহর পথে (জিহাদে) পাহারায় রাতযাপন করে। (তিরমিজি)
আল্লাহর জন্য কান্না তিন প্রকারের

১- চোখের কান্না (بكاء العينين)

২- মনের কান্নাبكاء القلب

৩- আত্মার কান্না بكاء الروح চোখ দিয়ে পানি ঝরার মাধ্যমেই উন্নত দুটি স্থর অর্জিত হয়।

 

ছয়টি কারণে কাদা উচিত।

১- গুনাহের কথা স্মরণ করে কাঁদা।بكاء الخطيه

২- ভয়ে কাঁদা। بكاء الخوف (কবর, নাশর, পুলসিরাত জাহান্নামের ভয়)

৩- নিয়ামত হারিয়ে যাওয়ার শোকে কাঁদা। بكاء الفقد
(যেমন তেলাওত, এবাদতে পুর্বে মন লাগত এখন, এরুপ তৃপ্তি না লাগার জন্য কাদা)

৪- লজ্জায় কাদা।بكاء الحياء
(আল্লাহর মেহেরবানীর তুলনায় সামান্যতম
অনুগত্য না করার লজ্জা)

৫- আল্লাহর মর্যাদার স্মরণে কাঁদা।بكاء الهيبه

৬- মাওলার সান্নিধ্য লাভের প্রত্যাশা ও ভালোবাসায় কাঁদা।بكاءللقاء والمحبه

 

মানুষের চোখের পানির মর্যাদা আল্লাহ তাআলার নিকট অনেক বেশি। তাই মানুষের উচিত তাঁর ভয়ে বেশি বেশি কান্নাকাটি করা। আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে মানুষকে তাঁর সব বিধিবিধান মেনে চলার পাশাপাশি তাঁর ভয়ে বেশি বেশি কান্নাকাটির করার তাওফিক দান করুন। মানুষের মনে তাঁর ভয় ও মহব্বত সৃষ্টি করে দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ