আলেমগণের মধ্যে ভিন্ন মত ও আমাদের অবস্থান
- Update Time : ০৫:৪২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২০
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
-সাদিক সালীম-
এখানে আমি আলেমগণের মতানৈক্য বলতে ঐসকল আলেমকে বুঝিয়েছি, যাঁরা ইলম ও দ্বীনদারিতায় নির্ভরযোগ্য। যাঁদেরকে আলেম মনে করা হয় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা আলেম নয়- এমন সব ব্যক্তির মতানৈক্য আমার উদ্দেশ্য নয়। কেননা তাদেরকে আমি আলেম মনে করি না এবং প্রকৃত আলেমগণের উক্তিসমূহ যেমন সংরক্ষণ করা হয়, আমি তাদের উক্তিসমূহকে সেই পর্যায়ের মনে করি না। সেজন্য যেসব আলেম মুসলিম উম্মাহ, ইসলাম ও ইল্ম বিষয়ে মানুষকে হিতোপদেশ দিয়ে প্রসিদ্ধি অর্জন করেছেন, আমি আলেম বলতে তাঁদেরকেই বুঝি। ঐসব আলেমের ব্যাপারে আমাদের ভূমিকা দুইভাবে হতে পারেঃ-
১. [আমাদেরকে জানতে হবে] ঐ সকল আলেম আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাত মোতাবেক কোন বিষয় হওয়া সত্ত্বেও কেন তদ্বিষয়ে মতানৈক্য করেছেন? মতানৈক্যের যেসব কারণ রয়েছে সেগুলোর মাধ্যমে এর জবাব জানা যেতে পারে। আর সেই কারণগুলো আসলে অনেক- যা শরী‘আতের জ্ঞান পিপাসুর নিকট স্পষ্ট, যদিও তিনি গভীর জ্ঞানের অধিকারী না হন।
২. [এরপর দেখতে হবে] তাঁদের অনুসরণের ব্যাপারে আমাদের করণীয় কি হবে? তাঁদের মধ্যে আমরা কার অনুসরণ করব? মানুষ কি কোন ইমামের এমন অনুসরণ করবে যে, তাঁর কথার বাইরে যাবে না- যদিও হক্ব অন্যের সাথে থাকে-যেমনটি কোন আলেমের অন্ধ ভক্তদের স্বভাব, নাকি তার কাছে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দলীলের অনুসরণ করবে- যদিও তা তার অনুসারী ইমামের বিরোধী হয়? এই দ্বিতীয়টাই সঠিক জবাব। সেজন্য যিনি দলীল জানতে পারবেন তার উপর সেই দলীলের অনুসরণ করা আবশ্যক- যদিও তা ইমামের বিরোধী হয়। তবে তা যেন ইজমার বিরোধী না হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি বিশ্বাস করবে, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো কথা সর্বাবস্থায় এবং সব সময় অবশ্য পালনীয়, সে অন্য কারো জন্য রিসালাতের বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করল। কেননা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো কথার বিধান এমনটা হতে পারে না এবং অন্য কারো কথা সর্বদা শিরোধার্য হতে পারে না।
তবে এ বিষয়ে আরো একটু চিন্তাভাবনার বিষয় রয়েছে। কেননা কুরআন ও সহীহ হাদীছের দলীল থেকে কে হুকুম-আহকাম বের করবেন তদ্বিষয়ে আমরা এখনও গোলকধাঁধায়? এটা মুশকিলও বটে। কেননা প্রত্যেকেই বলছেন, আমি এই ক্ষমতার অধিকারী। এটা আসলে ভাল কথা নয়। যদিও কুরআন ও সুন্নাহ একজন মানুষের গাইড হবে- সে দিক বিবেচনায় সেটা ভাল কথা। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, অর্থ জানুক বা না জানুক কোন রকম দলীল উচ্চারণ করতে পারে এমন প্রত্যেকের জন্য আমরা দরজা খুলে দেব আর বলব, তুমি মুজতাহিদ [শরী‘আত গবেষক], যা ইচ্ছা তুমি তাই বলতে পার। এমনটা হলে ইসলামী শরীআত, মানব ও মানব সমাজে পচন ধরবে।
পরিশেষে, আমি নিজেকে এবং আমার সমস্ত মুসলিম ভাইকে, বিশেষ করে ছাত্র ভাইদের কে বলবো , যখন কারো কাছে কোন মাসআলা আসবে, তখন সে যেন ভালভাবে না জেনে তড়িঘড়ি করে ফাতাওয়া না দেয়। যাতে আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ না করে বসে। কারণ মুফতী মানুষ এবং আল্লাহর মধ্যে মাধ্যম হিসাবে আল্লাহর শরী‘আত প্রচার করে থাকেন। যেমনিভাবে হাদীছে এসেছে- রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আলেমগণ নবীগণের উত্তরাধিকারী’।রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, ‘বিচারক তিন শ্রেণীর। তাঁদের এক শ্রেণীর বিচারক কেবল জান্নাতে যাবেন। আর তিনি হচ্ছেন, যিনি হক্ব জেনেছেন এবং সে অনুযায়ী রায় দিয়েছেন’।
আল্লাহর কাছে আমার নিজের জন্য এবং আপনাদের জন্য তাওফিক ও সঠিকতা প্রার্থনা করছি। তিনি আমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে কালেমায়ে ত্বাইয়্যেবাহ-এর উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন। হেদায়েত দানের পর তিনি যেন আমাদের অন্তঃকরণকে বিপথগামী না করেন এবং আমাদেরকে তিনি যেন তার পক্ষ থেকে রহমত দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা।শুরুতে ও শেষে সবসময় মহান রব্বুল আলামীনের জন্য যাবতীয় প্রশংসা। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও ছাহাবীবর্গের উপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
লেখক: কলামিস্ট ও সাবেক ছাত্রনেতা :



















