আমি যে কাজ করেছি তা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনদিন হয় নি: সিলেটে আসিফ নজরুল
- Update Time : ১০:০২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ মামলাপূর্ব মধ্যস্থতার বাধ্যতামূলক বিধান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন অন্তবর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের আওতাধীন জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার উদ্যোগে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে আসিফ নজরুল বলেন, ‘প্রায়ই দেখবেন সোস্যাল মিডিয়ায় অনেকে বলছে আপনারা কি করছেন? মানুষজনের রক্তের উপর আপনাদের বসাইছে। আপনারা কি করছেন? আমি বুঝতে পারি না এর আনসারটা কি? আমিতো ফুটবল প্লেয়ার না বা কোনো মঞ্চ নাটকের অভিনেতা না। আমি যেটা করবো, সেটা আপনারা দেখতে পারবেন। সেটা আপনাকে দেখতে হবে কাজের মধ্যে দিয়ে। এই যে লিগ্যাল এইডের কাজ করলাম। এর বাইরে আমরা অনেক কাজ করেছি, যেটা বাংলাদেশে ইতিহাসে কোনোদিন হয়নি।’ আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমকে সম্প্রসারণ এবং অধিকতর গতিশীল, জনবান্ধব ও সহজলভ্য করতে ১ জুলাই আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়। এটি বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই অধ্যাদেশের তফসিলভুক্ত বিষয়গুলোতে (যেমন, পারিবারিক বিরোধ, নিতা-মাতার ভরণপোষণ, বাড়ি ভাড়া, যৌতুক ইত্যাদি) ১২টি জেলায় মামলাপূর্ব মধ্যস্থতার বাধ্যতামূলক বিধান আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে। আইন সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ৩৫ নং অধ্যাদেশ) এর ধারা ১ এর উপ-ধারা (২) এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পাইলট প্রকল্প হিসেবে সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী, রাঙামাটি জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘আমরা সিভিল ও ক্রিমিনাল আদালত পৃথক করেছি, যাতে মামলার নিষ্পত্তি দ্রুতগামী হয়। এটা এর আগে কোনোদিন কেউ করেনি। আগে বিচারিক পদ সৃজনের ক্ষমতা পলিটিক্যাল মন্ত্রীদের হাতে ছিল, এটা আমরা চিফ জাস্টিস অফিসারের হাতে দিয়ে গেছি। সেই ফাইল আমরা নিজ হাতে গিয়ে সাইন করে নিয়ে এসেছি। পিয়নের মতো করে নিজে ফাইল নিয়ে গিয়ে সাইন করিয়েছি। আমরা যা যা করেছি, কোনোদিনই বাংলাদেশে এর আগে হয়নি।’
আইন উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মানুষজন যে সল্যুশন পায়, সেটার জন্য ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জন আর কোর্টে যায় না। সেখানে মামলা নিষ্পত্তি হয়। অথচ প্রচলিত আদালতে যখন মামলা হয়, বিচারিক আদালতে মামলা হওয়ার পরও কেউ উচ্চ আদালতে যায় আপিল করার জন্য। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মানুষজন কম সময়ে কম খরচে বিচার পায়, অনেক কম ভোগান্তি হয়, অনেক বেশি মানুষ বিচার পায়।’
ড. আসিফ নজরুল জানান, ‘লিগ্যাল এইড আগে বাধ্যতামূলক ছিল না, এবার আমরা মামলার জট কমানোর জন্য বাধ্যতামূলক করেছি। আপনাকে লিগ্যাল এইডে যেতে হবে। সেখানে যাওয়ার পর যদি আপনি অসন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে তখন আপনি বিচারিক আদালতে যাবেন। এটা আমরা করেছি এক নাম্বার পরিবর্তন। দুই নম্বর হলো- লিগ্যাল এইডের মামলায় ১১ ধরনের আইন আমরা সুনির্দিষ্ট করেছি। এখানে আমরা চেকের মামলাও সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছি। ৩য় পরিবর্তন হচ্ছে আগে লিগ্যাল এইডে একজন সিনিয়র সহকারী জজ ছিলেন। এখন সেখানে তার সাথে আরেকজন সিনিয়র জজ থাকবেন এবং রিটায়ার ডিস্ট্রিক্ট সেকশনের একজন থাকবেন। আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারির মাধ্যমে মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার যে বিধান কার্যকর হচ্ছে তাতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার পাওয়ার অভাবনীয় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’
নতুন অধ্যাদেশ কার্যকরের সুফল সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, ‘মামলাপূর্ব মধ্যস্থতার বাধ্যতামূলক বিধানের ফলে মানুষের অধিকার সুরক্ষার পথ আরও সুগম হবে। একদিকে যেমন মামলা নিষ্পত্তির সময় কমবে, তেমনি খরচও বাঁচবে। মামলার জট হ্রাস পেয়ে জনগনের হয়রানি দূর হবে। এ পরিবর্তনের ফলে জনগণ দ্রুত আইনি প্রতিকার পাবে, এতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরো বলেন, লিগাল এইডের মামলাপূর্ব মধ্যস্থতায় বেশিরভাগ বিবাদীপক্ষই সন্তুষ্ট হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে এর মাধ্যমে দুই পক্ষই জয় লাভ করে। একারণেই এটিকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’

























