আমরা একটি আলোকিত ভোরের অপেক্ষায়
- Update Time : ০৩:২১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
মুক্তাদির অাহমদ মুক্তা
আমরা একটি আলোকিত ভোরের অপেক্ষায়। রাত যতো গভীর ভোর ততো নিকটবর্তী। ভোর হলেই বৈশাখের প্রথম দিন, পহেলা বৈশাখ। প্রতিবছরই এই দিনে ছুটে যেতাম নিজ অধিক্ষেত্রে উৎসব আয়োজনে। এবার যাওয়া হবে না কারণ উৎসব কোথাও নেই। আমাদের উৎসব কেড়ে নিয়েছে গুটিকয়েক মুনাফাখোর লোভী মানুষরূপী শয়তান।হাওরাঞ্চলে বৈশাখী উৎসবের বদলে চলছে ঠিকে থাকার লড়াই।অনিশ্চিত গন্তব্যে দাঁড়িয়ে উৎসব করতে পারে না হাওরবাসী। তবুও সংগ্রামী জীবন থেমে নেই। চলছে সংকট উত্তরনের প্রানান্তকর প্রচেষ্টা। এবারের বৈশাখ হোক শক্তি সঞ্চয়ের অঙ্গিকার আর মনোবল ফেরানোর নিরানন্দ দিন। লজ্জা লাগে এমন নির্মমতার সময়ও কিছু অমানবিক লোক ধার করা ক্ষমতার দম্ভে দূর্গত মানুষকে নিয়ে লুকোচুরি করছে। নিজেদের প্রতিপত্তি পাকাপোক্ত করতে অপকৌশলে করছে ফটোসেশন আর লোকদেখানো দৌড়ঝাঁপ।সতর্ক থাকতে হবে অসাধু আমলা, লোভী ঠিকাদার আর দুর্নীতিবাজ পিআইসির রক্ষকরা অাবার ভক্ষক সেজে যেনো পুর্নবাসনের নামে প্রতারিত না করে অসহায় কৃষকদের।এবারের বাংলা নববর্ষের অাগমনটাই হচ্ছে নানা টানাপোড়ন আর প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর অশ্লিল আস্ফালনের মধ্য দিয়ে।আমরা একটা বর্বর সময় পাড় করছি।প্রতিনিয়ত সংকট আর জঙ্গিপনায় ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে প্রিয় মাতৃভূমি। গভীর অনিশ্চয়তা আর বিভ্রান্তি যেনো কাবু করে ফেলছে চারপাশ।তবুও এগিয়ে যেতে হবে। কুপুমুন্ডুকতা আর পশ্চাদপদতার কাছে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ হার মানতে পারে না। উৎসবের উচ্ছাসে মানুষের হাহাকার বন্ধ করা যাবে না। সংস্কৃতির নামে বাণিজ্য, উৎসবের নামে সস্তা বিনোদন আর একদিনের বাঙালি সেজে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা সুস্থ চিন্তার প্রতিফলন নয়।পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রতিদিনের প্রাত্যহিকতার নির্মল দিন হোক।ধর্মীয় উন্মাদনা আর নাগরিক বিলাসের কাছে আমাদের লোকাচার ধবংস যেনো না হয়।উগ্রতা যেনা বন্ধ না করে অগ্রসরতা।
আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হোক প্রগতিকামী,চিন্তাধারা হোক বিজ্ঞানমনস্ক, মানসিকতা হোক সর্বজনীন।সুন্দরের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানই কেবল নিশ্চিত করতে পারে অর্থবহ পরিবর্তন।সম্ভাবনার হাতছানিকে নির্বিঘ্ন ও স্থায়িত্বশীল করতে প্রয়োজন প্রতিশ্রুতিশীল দৃঢ় অবস্থান। নিরাপদ জীবনের জন্য প্রয়োজন নির্মোহ আইনের শাসন। দূরদূর্শী,যুগপোযোগী চিন্তাচেতনায় সৃষ্ঠি করতে হবে সামাজিক ঐক্য। ভাবনার দিগন্ত হোক মসৃণ। ভাঙ্গাগড়ায় নির্মিত হোক আগামীর প্রতীতি।বৈশাখের ঝরঝাপ্টা তো আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর শিক্ষাই দেয়। আসুন টেকসই উন্নয়ন আর মানবিক সমাজের জন্য প্রতিবাদী হই। পরশ্রিকাতরতা আর প্রথাগত হিংসা,বিদ্বেষ,গ্লানি মুছে স্ব স্ব অবস্থান থেকে গাই আত্মমর্যাদার গান।মানুষ বেঁচে থাক সম্মান নিয়ে, অধিকার নিয়ে, করুনার দান জীবনের উপকরন হতে পারে না। তরুনরাই পারে সৃজনশক্তি দিয়ে অপশক্তিকে দমন করতে। তার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ আর সঠিক কর্মক্ষেত্র। হার না মানার অবিচল প্রত্যয়। বৈশাখের গর্জনতো আমাদের সেই বার্তাই দেয়।প্রকৃতির নির্মমতার কাছে আত্মসমর্পন না করে প্রকৃতির পরিবর্তনকে জীবনঘনিষ্ট করার শিক্ষাই তো বৈশাখ আমাদের দেয়। বাস্তবতা অস্বীকার করার সূযোগতো কারো নেই। সংকট উত্তরনের শক্তি পাক অসহায় ভাটিবাংলা। মানবিকতা আর নান্দনিকতায় মেতে থাকুক সোনার বাংলা। সকলকে বৈশাখী শুভেচ্ছা।
লেখাটি লেখকের ফেইসবুক টাইমলাইন থেকে।





























