০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আইয়ামে বীজের রোজার গুরুত্ব: আসুন, স্লিম হতে নয়, এবাদাতের নিয়তে রোজা রাখি : শাহ মমশাদ আহমদ

  • Update Time : ১২:২৬:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২২
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মানুষের প্রিয় ঋতু শীত বিদায় নেয়ার পথে।আল্লাহর প্রিয় বান্দাগনের নিকট এ মওসুম আরও বেশী প্রিয়, কেননা অন্যান্য মওসুমের তুলনায় এ সময়ে এবাদাত বেশি করা যায় এবং সহজে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সু্যোগ পাওয়া যায়। এজন্যই শীতকালের ব্যাপারে প্রিয় নবী সঃ বলেন,শীতকাল মুমিনের বসন্ত কাল।(মুসনাদে আহমাদ)। অন্য রেওয়াতে নবীজি বলেন, শীতল গণিমত হচ্ছে শীতকালে রোজা রাখা (তিরমিজি)। মাশাল্লাহ, ইদানীং অনেক তরুণ-যুবক ভাইদের খাদ্য নিয়ন্ত্রনের অংশ হিসেবে রোজা রাখতে দেখা যায়। প্রতিটি ইবাদাত নিয়াতের উপর নির্ভরশীল। স্লিম হওয়ার জন্য রোজা রাখা হলে তা হবে উপবাস বা ফেস্টিং। সাওম বা রোজা রাখতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। ইবাদাতের মধ্যে লুকিয়ে থাকা শারীরিক উপকার এমনিতেই অর্জিত হবে।আল্লাহ ও রাসুল সঃ নির্দেশিত আমল সমুহে যদি চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে শারীরিক ক্ষতিও হয়, মুসলমান তা পালনে পিছপা হবেনা। এটাই আমাদের ঈমানের দাবী। চিকিৎসকদের মতামত পরিবর্তন হয়, আল্লাহর নির্দেশের কোন হেরফের নেই। এতে অবশ্যই মানুষের কল্যাণ রয়েছে। কালক্রমে গবেষণায় বের হয়ে আসবে।
প্রিয় নবী সঃ অধিক হারে রোজা রাখার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা সুন্নাত। এছাড়া প্রতি মাসে আইয়ামে বিযের রোজা রাখা ও সুন্নাহ। এবাদাতের এ বসন্তকালে চলিত চন্দ্রমাস জামাদিউস সানীর ১৩, ১৪ও ১৫ তারিখ আগামী সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে, ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারী আইয়ামে বীজ।বছরের ছোট দিনগুলোতে আমরা আইয়ামে বীজের রোজা রাখতে পারি। আরবী মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের দিনগুলোকে আইয়ামে বীজ বলা হয়। আইয়াম আরবি ইয়াওম শব্দের বহুবচন, যার অর্থ দিনগুলো, বীজ অর্থ সাদা বা শুভ্র।
এরাত গুলোতে জোৎস্নায় রাতগুলো শুভ্র ও আলোকিত হয় বিশেষত মরুভূমিতে এটি বেশি দেখা যায়, একারণে আইয়ামে বীজ বলা হয়। এদিন গুলোতে রোজা রাখা খুব ফজিলতময় ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয় নবী সঃ সফরের সময় ও এ নফল রোজা রাখতেন, সাহাবায়ে কেরামকে উৎসাহ দিতেন।

 

এ ব্যাপারে অনেক হাদিসের মধ্যে হতে তিনটি হাদীস উল্লেখ করছি
& হযরত আবু হুরায়রা রাজিঃ বলেন, আমার বন্ধু আমাকে তিনটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখা, দুরাকাত সালাতুয যোহা, ঘুমানোর পুর্বে বিতির সালাত আদায় করা। (বুখারী)

&প্রতি মাসে তিনটি করে রোজা পালন সারা বছর রোজা রাখার সমপর্যায়ের। (বুখারী)

& সবরের মাসের (রমযান) রোযা ও প্রতি মাসের তিন দিনের রোজা অন্তরের হিংসা বিদ্বেষ দূর করে দেয় (মুসনাদে আহমাদ)

এ দিনগুলোতে রোজা রাখার হেকমত বর্ননা করে অনেক বিদগ্ধ আলেম বলেন, চন্দ্র পুর্নিমার প্রভাবে এ দিনগুলোতে মানুষের রক্ত প্রবাহিকা বৃদ্ধি পায়, অসৎ কর্মের দিকে মানুষের মন বেশি ধাবিত হয়,এজন্যই দেখা যায়, চন্দ্র মাসের এদিনগুলিতে বেশি অপরাধ সংঘটিত হয়, তা নিয়ন্ত্রণের জন্যই এদিন গুলোতে রোজা রাখা সুন্নাহ। মুল রহস্য আল্লাহই জানেন।আমাদের উচিত, প্রিয় নবীর সুন্নাহ হিসেবে রোজা রাখা আল্লাহ তাওফিক দিন।
লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

আইয়ামে বীজের রোজার গুরুত্ব: আসুন, স্লিম হতে নয়, এবাদাতের নিয়তে রোজা রাখি : শাহ মমশাদ আহমদ

Update Time : ১২:২৬:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২২

মানুষের প্রিয় ঋতু শীত বিদায় নেয়ার পথে।আল্লাহর প্রিয় বান্দাগনের নিকট এ মওসুম আরও বেশী প্রিয়, কেননা অন্যান্য মওসুমের তুলনায় এ সময়ে এবাদাত বেশি করা যায় এবং সহজে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সু্যোগ পাওয়া যায়। এজন্যই শীতকালের ব্যাপারে প্রিয় নবী সঃ বলেন,শীতকাল মুমিনের বসন্ত কাল।(মুসনাদে আহমাদ)। অন্য রেওয়াতে নবীজি বলেন, শীতল গণিমত হচ্ছে শীতকালে রোজা রাখা (তিরমিজি)। মাশাল্লাহ, ইদানীং অনেক তরুণ-যুবক ভাইদের খাদ্য নিয়ন্ত্রনের অংশ হিসেবে রোজা রাখতে দেখা যায়। প্রতিটি ইবাদাত নিয়াতের উপর নির্ভরশীল। স্লিম হওয়ার জন্য রোজা রাখা হলে তা হবে উপবাস বা ফেস্টিং। সাওম বা রোজা রাখতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। ইবাদাতের মধ্যে লুকিয়ে থাকা শারীরিক উপকার এমনিতেই অর্জিত হবে।আল্লাহ ও রাসুল সঃ নির্দেশিত আমল সমুহে যদি চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে শারীরিক ক্ষতিও হয়, মুসলমান তা পালনে পিছপা হবেনা। এটাই আমাদের ঈমানের দাবী। চিকিৎসকদের মতামত পরিবর্তন হয়, আল্লাহর নির্দেশের কোন হেরফের নেই। এতে অবশ্যই মানুষের কল্যাণ রয়েছে। কালক্রমে গবেষণায় বের হয়ে আসবে।
প্রিয় নবী সঃ অধিক হারে রোজা রাখার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা সুন্নাত। এছাড়া প্রতি মাসে আইয়ামে বিযের রোজা রাখা ও সুন্নাহ। এবাদাতের এ বসন্তকালে চলিত চন্দ্রমাস জামাদিউস সানীর ১৩, ১৪ও ১৫ তারিখ আগামী সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে, ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারী আইয়ামে বীজ।বছরের ছোট দিনগুলোতে আমরা আইয়ামে বীজের রোজা রাখতে পারি। আরবী মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের দিনগুলোকে আইয়ামে বীজ বলা হয়। আইয়াম আরবি ইয়াওম শব্দের বহুবচন, যার অর্থ দিনগুলো, বীজ অর্থ সাদা বা শুভ্র।
এরাত গুলোতে জোৎস্নায় রাতগুলো শুভ্র ও আলোকিত হয় বিশেষত মরুভূমিতে এটি বেশি দেখা যায়, একারণে আইয়ামে বীজ বলা হয়। এদিন গুলোতে রোজা রাখা খুব ফজিলতময় ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয় নবী সঃ সফরের সময় ও এ নফল রোজা রাখতেন, সাহাবায়ে কেরামকে উৎসাহ দিতেন।

 

এ ব্যাপারে অনেক হাদিসের মধ্যে হতে তিনটি হাদীস উল্লেখ করছি
& হযরত আবু হুরায়রা রাজিঃ বলেন, আমার বন্ধু আমাকে তিনটি বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখা, দুরাকাত সালাতুয যোহা, ঘুমানোর পুর্বে বিতির সালাত আদায় করা। (বুখারী)

&প্রতি মাসে তিনটি করে রোজা পালন সারা বছর রোজা রাখার সমপর্যায়ের। (বুখারী)

& সবরের মাসের (রমযান) রোযা ও প্রতি মাসের তিন দিনের রোজা অন্তরের হিংসা বিদ্বেষ দূর করে দেয় (মুসনাদে আহমাদ)

এ দিনগুলোতে রোজা রাখার হেকমত বর্ননা করে অনেক বিদগ্ধ আলেম বলেন, চন্দ্র পুর্নিমার প্রভাবে এ দিনগুলোতে মানুষের রক্ত প্রবাহিকা বৃদ্ধি পায়, অসৎ কর্মের দিকে মানুষের মন বেশি ধাবিত হয়,এজন্যই দেখা যায়, চন্দ্র মাসের এদিনগুলিতে বেশি অপরাধ সংঘটিত হয়, তা নিয়ন্ত্রণের জন্যই এদিন গুলোতে রোজা রাখা সুন্নাহ। মুল রহস্য আল্লাহই জানেন।আমাদের উচিত, প্রিয় নবীর সুন্নাহ হিসেবে রোজা রাখা আল্লাহ তাওফিক দিন।
লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ