০৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অাজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

  • Update Time : ০৩:৩৫:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: আজ ২৬ মার্চ। সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশের জীবনে এক অনন্য দিন। লাল-সবুজের পতাকা শোভিত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে একটি নতুন জাতির জন্ম এ দিনে। রক্ত পাথার সাঁতরে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা বিশ্বকে জানান দিলো এ রাষ্ট্র কারো দয়ার দানে পাওয়া নয়। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আর ‘শহীদী খুনের নজরানা’-এই দেশ। আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।
১৯৭১-এর এই দিনে রক্তের স্রোতে ভেসে যায় সোনার বাংলা। বাংলা সংস্কৃতির পীঠস্থান বাংলা একাডেমিও হানাদারদের কবল থেকে রেহাই পায়নি। পাখির মতো গুলি করে পাকিস্তানি সৈন্যরা মানুষ খুন করে। তবে এই হত্যাই শেষ কথা নয়। জালিমশাহীকে সমুচিত জবাব দিতে বাংলার দামাল ছেলেরা গড়ে তোলে নিরঙ্কুশ প্রতিরোধ। হজরত শাহ জালাল র:, শাহ পরান র: আর বখতিয়ারসহ হাজারো বীরের রক্ত প্রবাহিত বাংলাদেশের মানুষের শিরায় উপশিরায়। সেই রক্ত যার শিরায় প্রবাহিত সে কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে পারে না, করেনি।
আজ বেলা পৌনে ২টায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে আসে স্বাধীনতার ঘোষণা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে ঘোষিত স্বাধীনতার বেতার বার্তায় বলা হয়Ñ ‘বাঙালি ভাই ও বোনদের কাছে এবং বিশ্ববাসীর কাছে আমার আবেদন, রাজারবাগ পুলিশ ক্যাম্প, পিলখানা ইপিআর ক্যাম্পে গত রাত বারোটায় পাকিস্তান সৈন্যরা আতর্কিতে হামলা চালিয়ে হাজার হাজার লোককে হত্যা করেছে। হানাদার পাকিস্তানি সৈন্যদের সঙ্গে আমরা লড়ে যাচ্ছি। আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন এবং পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকেই হোক। এমতাবস্থায় আমি বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে ঘোষণা করছি। তোমরা তোমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে মাতৃভূমিকে রক্ষা করো। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। ’
সন্ধ্যায় রেডিও পাকিস্তানে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বলেন, ‘শেখ মুজিবের অসহযোগ আন্দোলন দেশদ্রোহিতার শামিল। তিনি এবং তার দল দেশের আইনগত কর্তৃত্বকে অবমাননা করে আসছেন।’
এ দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ধরে নিয়ে আটকের খবর বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে অনেক দেরিতে।
২৬ মার্চ বিপ্লবী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রথম অনুষ্ঠান সম্পর্কে বেগম মুশতারী শফি লিখেছেনÑ ‘দারুণ উৎকণ্ঠায় আমাদের সময় কাটছে। রাস্তায় রাস্তায় প্রচুর ব্যারিকেড তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে শোনা গেল লালখান বাজার পুলিশ লাইনে প্রচুর গোলাগুলি হচ্ছে। এমনি নানান দুর্ভাবনায় কেটে গেল আমাদের ২৬ মার্চ দিনটি।’
সন্ধ্যায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে একে একে ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়, হবে হবে নিশ্চয়’; ‘কারার ওই লৌহ কপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট’; ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে এই জনতা’… গানগুলো শেষ হলে বৃদ্ধ কবি আবদুস সালামের কণ্ঠে পবিত্র কুরআনের বাণীÑ ‘নাসরুম মিনাল্লাহি ওয়া ফাতহুন করীব’ শোনা যায়।
সকল দুর্ভাবনা কেটে যায় ২৬ মার্চ রাতে, যখন মেজর জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে স্বাধীনতার অমোঘ ঘোষণা শোনা যায়। অস্ত্র হাতে স্বাধীনতার নেশায় ঝাঁপিয়ে পড়ে কোটি বাঙালি। ৯ মাস ধরে চলে রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতার যুদ্ধ। ১৬ ডিসেম্বর আসে বিজয়, লাল-সবুজ পতাকার বাংলাদেশ।
গোটা জাতি আজ শোক ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে অবনতচিত্তে স্মরণ করছে স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের, অকুতোভয় বীর সেনানি মুক্তিযোদ্ধাদের। পাশাপাশি গোটা দেশ মেতে উঠবে স্বাধীনতা উদযাপনের আমেজে। আজ সরকারি ছুটি। প্রত্যুষে রাজধানীর তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশী কূটনীতিক, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বসাধারণ। ফুলে ফুলে ভরে উঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে প্রাপ্ত স্বাধীনতার সৌরভ পৌঁছাক বাংলার প্রতিটি ঘরে। পরম করুণাময়ের দরবারে এই দিনে এটাই প্রার্থনা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

অাজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

Update Time : ০৩:৩৫:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: আজ ২৬ মার্চ। সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশের জীবনে এক অনন্য দিন। লাল-সবুজের পতাকা শোভিত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে একটি নতুন জাতির জন্ম এ দিনে। রক্ত পাথার সাঁতরে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা বিশ্বকে জানান দিলো এ রাষ্ট্র কারো দয়ার দানে পাওয়া নয়। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আর ‘শহীদী খুনের নজরানা’-এই দেশ। আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।
১৯৭১-এর এই দিনে রক্তের স্রোতে ভেসে যায় সোনার বাংলা। বাংলা সংস্কৃতির পীঠস্থান বাংলা একাডেমিও হানাদারদের কবল থেকে রেহাই পায়নি। পাখির মতো গুলি করে পাকিস্তানি সৈন্যরা মানুষ খুন করে। তবে এই হত্যাই শেষ কথা নয়। জালিমশাহীকে সমুচিত জবাব দিতে বাংলার দামাল ছেলেরা গড়ে তোলে নিরঙ্কুশ প্রতিরোধ। হজরত শাহ জালাল র:, শাহ পরান র: আর বখতিয়ারসহ হাজারো বীরের রক্ত প্রবাহিত বাংলাদেশের মানুষের শিরায় উপশিরায়। সেই রক্ত যার শিরায় প্রবাহিত সে কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে পারে না, করেনি।
আজ বেলা পৌনে ২টায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে আসে স্বাধীনতার ঘোষণা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে ঘোষিত স্বাধীনতার বেতার বার্তায় বলা হয়Ñ ‘বাঙালি ভাই ও বোনদের কাছে এবং বিশ্ববাসীর কাছে আমার আবেদন, রাজারবাগ পুলিশ ক্যাম্প, পিলখানা ইপিআর ক্যাম্পে গত রাত বারোটায় পাকিস্তান সৈন্যরা আতর্কিতে হামলা চালিয়ে হাজার হাজার লোককে হত্যা করেছে। হানাদার পাকিস্তানি সৈন্যদের সঙ্গে আমরা লড়ে যাচ্ছি। আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন এবং পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকেই হোক। এমতাবস্থায় আমি বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে ঘোষণা করছি। তোমরা তোমাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে মাতৃভূমিকে রক্ষা করো। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। ’
সন্ধ্যায় রেডিও পাকিস্তানে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বলেন, ‘শেখ মুজিবের অসহযোগ আন্দোলন দেশদ্রোহিতার শামিল। তিনি এবং তার দল দেশের আইনগত কর্তৃত্বকে অবমাননা করে আসছেন।’
এ দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ধরে নিয়ে আটকের খবর বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে অনেক দেরিতে।
২৬ মার্চ বিপ্লবী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রথম অনুষ্ঠান সম্পর্কে বেগম মুশতারী শফি লিখেছেনÑ ‘দারুণ উৎকণ্ঠায় আমাদের সময় কাটছে। রাস্তায় রাস্তায় প্রচুর ব্যারিকেড তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে শোনা গেল লালখান বাজার পুলিশ লাইনে প্রচুর গোলাগুলি হচ্ছে। এমনি নানান দুর্ভাবনায় কেটে গেল আমাদের ২৬ মার্চ দিনটি।’
সন্ধ্যায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে একে একে ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়, হবে হবে নিশ্চয়’; ‘কারার ওই লৌহ কপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট’; ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে এই জনতা’… গানগুলো শেষ হলে বৃদ্ধ কবি আবদুস সালামের কণ্ঠে পবিত্র কুরআনের বাণীÑ ‘নাসরুম মিনাল্লাহি ওয়া ফাতহুন করীব’ শোনা যায়।
সকল দুর্ভাবনা কেটে যায় ২৬ মার্চ রাতে, যখন মেজর জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে স্বাধীনতার অমোঘ ঘোষণা শোনা যায়। অস্ত্র হাতে স্বাধীনতার নেশায় ঝাঁপিয়ে পড়ে কোটি বাঙালি। ৯ মাস ধরে চলে রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতার যুদ্ধ। ১৬ ডিসেম্বর আসে বিজয়, লাল-সবুজ পতাকার বাংলাদেশ।
গোটা জাতি আজ শোক ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে অবনতচিত্তে স্মরণ করছে স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের, অকুতোভয় বীর সেনানি মুক্তিযোদ্ধাদের। পাশাপাশি গোটা দেশ মেতে উঠবে স্বাধীনতা উদযাপনের আমেজে। আজ সরকারি ছুটি। প্রত্যুষে রাজধানীর তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশী কূটনীতিক, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বসাধারণ। ফুলে ফুলে ভরে উঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে প্রাপ্ত স্বাধীনতার সৌরভ পৌঁছাক বাংলার প্রতিটি ঘরে। পরম করুণাময়ের দরবারে এই দিনে এটাই প্রার্থনা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ