০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অযত্নে অবহেলাতে পরে আছে ঐতিহ্যবাহী পাগলা বাজার ডাক বাংলো

  • Update Time : ০৮:২১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ মে ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মো. রশিদ অাহমদ :: সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি বাজার পাগলা বাজার। যেখানে অতিথ থেকে এখনো অব্ধি অনেক লোকসমাগমের স্থান। পাগলা বাজার কে ঘিরে রয়েছে অনেক সৃতিময় অতিথ। এই বাজারের আশপাশ গ্রাম থেকেই জন্ম বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্ষমতাধর ব্যাক্তিবর্গের। আওয়ামীলীগ, বিএনপি,কিংবা জাতীয় পার্টী বলেন জেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই এলাকার রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ।এই সকল দলের নেই কোন নিজস্ব দলীয় কার্যালয়, এই সকল দলের নেতাদের বসার সেই রকম স্থান নেই চোখে পরার মত। সেই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলির নেতাদের বেচে নিতে হচ্ছে নিজনিজ বিল্ডিং। কথাগুলি বলছিলেন নাম প্রকাশ এ অনিশ্চুক এক জন ব্যাবসায়ী। শুধু তাই নয় এলাকায় অনেক সামাজিক সংগঠন ও রয়েছে কিন্তু মাষিক সভা, কর্মীসভা,অথবা যে কোন ধরনের বিচার, শালিসি করার মত ভাল কোন জায়গা নেই এই বাজারে।

 

এইসব ক্ষেত্রে বেচে নিতে হয় যে কোন ব্যবসা, ব্যাবসায়ীর প্রতিস্টানের সামন অথবা ঘড় বা ব্যাক্তি মালিকানাধীন যে কোন বিল্ডিং। বিশেষ করে রাজনৈতিক কোন মিটিং মিছিল জনসভা হলে আতংকিত থাকতে হয় বাজারের ব্যাবসায়ীদের। অনেক ফুটপাতের ছোটখাটো ব্যাবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায় রাজনৈতিক মিটিং এর দিন ব্যাবসার অনেক লস হয়। এর চেয়ে বেশি আতংকিত থাকতে হয়। আতংকিত থাকার কথা জানতে চাইলে তারা অনেকেই বলেন গ্রুপিং রাজনীতিই এর মুল কারন। এই সব দিকে কোন দলের রাজনৈতিক নেতাদের নজরেই নাকি পরেনা।
পাগলায় একটা সরকারি ডাক বাংলো রয়েছে যেখানে অতিথে আইয়ুব খানের আমল থেকেই অনেক বড় বড় নেতারা মিটিং, মিছিল, থেকে রাত্রিযাপন পর্যন্ত করে গেছেন কিন্তু এখন আর কোন রাজনৈতিক মিটিং মিছিল, সমাবেশ করা হয়না।

 
যদি এই ডাক বাংলোতে বিশেষ করে রাজনৈতিক মিছিল,মিটিং, জনসভা করা হয় তাহলে আমাদের আর এত আতংকিত থাকতে হয়না। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় সত্যিই সরকারের অনেক টাকার সম্পত্তি এবং পাগলা বাজারের ঐতিহ্য ডাক বাংলো অযত্ন অবহেলাতেই পরে রয়েছে। সত্যি সত্যি এই ঐতিহ্য ডাক বাংলোর প্রতি কারো কোন সুদৃষ্টি নেই। ডাক বাংলোর চারদিকে পড়ে আছে পুরাতন মদের বোতল,কচু বাগান,মানুষের মলমুত্র আর ফেলে যাওয়া সিগারেটের আবর্জনার স্তুপ। এক ভয়ানক পরিস্থিতিতে রুপধারন করছে এই ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলো । এলাকার কিছু সাধারণ মানুষজন দের সাথে কথা হলে উনারা বলেন আগে যে কোন ধরনের অনুস্টান এই ডাক বাংলোতেই হত কিন্তু এখন হয়না। এলাকার একজন সচেতন সমাজকর্মী গোলাম কিবরিয়া জানান এই ডাকবাংলায় আমরা ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি রাজনৈতিক মিটিং,মিছিল,জনসভা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুস্টান সহ অনেক বড়বড় নেতাদের সমাগম ছিল,কিন্তু এখন নেই আমি চাই আমাদের এই ঐতিহ্য আবার ফিরে আসুক। বিশিষ্ট ক্রিড়া ব্যাক্তিত্ব আতিকুর রহমান আতিক বলেন এই ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলাতে আমরা ছোট বেলা থেকে ব্যাডমিন্টন, মিনিবারের ফুটবল, খেলে এসেছি,এবং রাজনৈতিক মিটিং, মিছিল সমাবেশ হত,কিন্তু বর্তমানে সড়ক ও জনপথের বিভিন্ন জায়গার ব্রিজ ভাংগার স্টিলের সরঞ্জামাদি, বাসস্টপেজ থেকে বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা ফেলাতে ডাকবাংলার ঐতিহ্য দিনদিন হারাচ্ছে।আমরা মনে প্রানে চাই আমাদের ডাকবাংলার পুরাতন ঐতিহ্য ফিরে পাক। ডাকবাংলোর ব্যাপারে বিএনপি নেতা আনছার উদ্দিন বলেন, আমাদের বিএপনি সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল তখন আমরা প্রতিটা মিছিল,মিটিং, সমাবেশ এই ডাকবাংলাতেই করেছি, কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার আসার পর থেকেই এই ডাকবাংলার এই ভয়ানক পরিস্থিতি হয়েছে,আমরা ক্ষমতায় আসলে ডাকবাংলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবো।

 

সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য ও পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল আলম নিক্কু বলেন, আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে অত্র ডাকবাংলা কে আমার অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যাবহার করেছি,পাশাপাশি হাট বাজারের দিনে আমি ডাকবাংলাতে ছোট ছোট ব্যাবসায়ীদের ব্যাবহার করতে দিয়েছি। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ সাহেব কে দিয়ে বাজারের ফুটপাতের ব্যাবসায়িদের স্থায়ী লিজ আনিয়ে দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু কিছু স্বার্থনেসি লোকজনের কারণে করে দিতে পারেনি। এরপর থেকেই এই ঐতিহ্যবাহী জায়গাটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরে আছে।আমি মনে প্রানে চাই এই জায়গাটি যেন অথিতের মত জনস্বার্থে ব্যাবহার করতে দেওয়া হয়।

 
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি জগলুল হায়দার বলেন আমি আমার সময়ে ডাকবাংলা কে পরিষ্কার পরিচন্ন রাখার চেষ্টা করেছি,বিভিন্ন সময় আমার দলীয় সমাবেশ এই ডাকবাংলাতেই করেছি।আমি চাই এই ডাকবাংলা টি সড়ক ও জনপথ দায়িত্বপ্রাপ্তগন যেন কোন ব্যাক্তিস্বার্থে ব্যাবহারিক সুযোগ না দিয়ে জনস্বার্থ এ ব্যাবহার করতে দিয়ে পুনরায় ঐতিহ্য ফিরিয়ে দেন।
কান্দিগাও গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বী রজব আলী ডাকবাংলার ব্যাপারে বলেন এইগুলী সামাদ সাবের আমলে পরিষ্কার পরিচন্ন ছিলো আমরা অনায়াসকৃতভাবে ব্যাবহার করেছি সামাদ সাহেবের মৃত্যুর পর থেকেই এটা এই অবহেলাতেই আছে। আমরা চাই পাগলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আসুক।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

অযত্নে অবহেলাতে পরে আছে ঐতিহ্যবাহী পাগলা বাজার ডাক বাংলো

Update Time : ০৮:২১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ মে ২০১৮

মো. রশিদ অাহমদ :: সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি বাজার পাগলা বাজার। যেখানে অতিথ থেকে এখনো অব্ধি অনেক লোকসমাগমের স্থান। পাগলা বাজার কে ঘিরে রয়েছে অনেক সৃতিময় অতিথ। এই বাজারের আশপাশ গ্রাম থেকেই জন্ম বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্ষমতাধর ব্যাক্তিবর্গের। আওয়ামীলীগ, বিএনপি,কিংবা জাতীয় পার্টী বলেন জেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই এলাকার রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ।এই সকল দলের নেই কোন নিজস্ব দলীয় কার্যালয়, এই সকল দলের নেতাদের বসার সেই রকম স্থান নেই চোখে পরার মত। সেই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলির নেতাদের বেচে নিতে হচ্ছে নিজনিজ বিল্ডিং। কথাগুলি বলছিলেন নাম প্রকাশ এ অনিশ্চুক এক জন ব্যাবসায়ী। শুধু তাই নয় এলাকায় অনেক সামাজিক সংগঠন ও রয়েছে কিন্তু মাষিক সভা, কর্মীসভা,অথবা যে কোন ধরনের বিচার, শালিসি করার মত ভাল কোন জায়গা নেই এই বাজারে।

 

এইসব ক্ষেত্রে বেচে নিতে হয় যে কোন ব্যবসা, ব্যাবসায়ীর প্রতিস্টানের সামন অথবা ঘড় বা ব্যাক্তি মালিকানাধীন যে কোন বিল্ডিং। বিশেষ করে রাজনৈতিক কোন মিটিং মিছিল জনসভা হলে আতংকিত থাকতে হয় বাজারের ব্যাবসায়ীদের। অনেক ফুটপাতের ছোটখাটো ব্যাবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায় রাজনৈতিক মিটিং এর দিন ব্যাবসার অনেক লস হয়। এর চেয়ে বেশি আতংকিত থাকতে হয়। আতংকিত থাকার কথা জানতে চাইলে তারা অনেকেই বলেন গ্রুপিং রাজনীতিই এর মুল কারন। এই সব দিকে কোন দলের রাজনৈতিক নেতাদের নজরেই নাকি পরেনা।
পাগলায় একটা সরকারি ডাক বাংলো রয়েছে যেখানে অতিথে আইয়ুব খানের আমল থেকেই অনেক বড় বড় নেতারা মিটিং, মিছিল, থেকে রাত্রিযাপন পর্যন্ত করে গেছেন কিন্তু এখন আর কোন রাজনৈতিক মিটিং মিছিল, সমাবেশ করা হয়না।

 
যদি এই ডাক বাংলোতে বিশেষ করে রাজনৈতিক মিছিল,মিটিং, জনসভা করা হয় তাহলে আমাদের আর এত আতংকিত থাকতে হয়না। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় সত্যিই সরকারের অনেক টাকার সম্পত্তি এবং পাগলা বাজারের ঐতিহ্য ডাক বাংলো অযত্ন অবহেলাতেই পরে রয়েছে। সত্যি সত্যি এই ঐতিহ্য ডাক বাংলোর প্রতি কারো কোন সুদৃষ্টি নেই। ডাক বাংলোর চারদিকে পড়ে আছে পুরাতন মদের বোতল,কচু বাগান,মানুষের মলমুত্র আর ফেলে যাওয়া সিগারেটের আবর্জনার স্তুপ। এক ভয়ানক পরিস্থিতিতে রুপধারন করছে এই ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলো । এলাকার কিছু সাধারণ মানুষজন দের সাথে কথা হলে উনারা বলেন আগে যে কোন ধরনের অনুস্টান এই ডাক বাংলোতেই হত কিন্তু এখন হয়না। এলাকার একজন সচেতন সমাজকর্মী গোলাম কিবরিয়া জানান এই ডাকবাংলায় আমরা ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি রাজনৈতিক মিটিং,মিছিল,জনসভা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুস্টান সহ অনেক বড়বড় নেতাদের সমাগম ছিল,কিন্তু এখন নেই আমি চাই আমাদের এই ঐতিহ্য আবার ফিরে আসুক। বিশিষ্ট ক্রিড়া ব্যাক্তিত্ব আতিকুর রহমান আতিক বলেন এই ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলাতে আমরা ছোট বেলা থেকে ব্যাডমিন্টন, মিনিবারের ফুটবল, খেলে এসেছি,এবং রাজনৈতিক মিটিং, মিছিল সমাবেশ হত,কিন্তু বর্তমানে সড়ক ও জনপথের বিভিন্ন জায়গার ব্রিজ ভাংগার স্টিলের সরঞ্জামাদি, বাসস্টপেজ থেকে বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা ফেলাতে ডাকবাংলার ঐতিহ্য দিনদিন হারাচ্ছে।আমরা মনে প্রানে চাই আমাদের ডাকবাংলার পুরাতন ঐতিহ্য ফিরে পাক। ডাকবাংলোর ব্যাপারে বিএনপি নেতা আনছার উদ্দিন বলেন, আমাদের বিএপনি সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল তখন আমরা প্রতিটা মিছিল,মিটিং, সমাবেশ এই ডাকবাংলাতেই করেছি, কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার আসার পর থেকেই এই ডাকবাংলার এই ভয়ানক পরিস্থিতি হয়েছে,আমরা ক্ষমতায় আসলে ডাকবাংলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবো।

 

সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য ও পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল আলম নিক্কু বলেন, আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে অত্র ডাকবাংলা কে আমার অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যাবহার করেছি,পাশাপাশি হাট বাজারের দিনে আমি ডাকবাংলাতে ছোট ছোট ব্যাবসায়ীদের ব্যাবহার করতে দিয়েছি। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ সাহেব কে দিয়ে বাজারের ফুটপাতের ব্যাবসায়িদের স্থায়ী লিজ আনিয়ে দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু কিছু স্বার্থনেসি লোকজনের কারণে করে দিতে পারেনি। এরপর থেকেই এই ঐতিহ্যবাহী জায়গাটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরে আছে।আমি মনে প্রানে চাই এই জায়গাটি যেন অথিতের মত জনস্বার্থে ব্যাবহার করতে দেওয়া হয়।

 
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি জগলুল হায়দার বলেন আমি আমার সময়ে ডাকবাংলা কে পরিষ্কার পরিচন্ন রাখার চেষ্টা করেছি,বিভিন্ন সময় আমার দলীয় সমাবেশ এই ডাকবাংলাতেই করেছি।আমি চাই এই ডাকবাংলা টি সড়ক ও জনপথ দায়িত্বপ্রাপ্তগন যেন কোন ব্যাক্তিস্বার্থে ব্যাবহারিক সুযোগ না দিয়ে জনস্বার্থ এ ব্যাবহার করতে দিয়ে পুনরায় ঐতিহ্য ফিরিয়ে দেন।
কান্দিগাও গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বী রজব আলী ডাকবাংলার ব্যাপারে বলেন এইগুলী সামাদ সাবের আমলে পরিষ্কার পরিচন্ন ছিলো আমরা অনায়াসকৃতভাবে ব্যাবহার করেছি সামাদ সাহেবের মৃত্যুর পর থেকেই এটা এই অবহেলাতেই আছে। আমরা চাই পাগলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আসুক।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ